কুড়িগ্রামের আরডিসি নাজিম ও দুই এডিসি প্রত্যাহার

অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের বাড়িতে মধ্যরাতে হানা এবং তাকে তুলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার ঘটনায় আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার রাজস্ব) নাজিম উদ্দিন, এডিসি (সহকারী কমিশনার) রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এডিসি এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক (এডিসি) মো. হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব কে এম আল-আমীনের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মধ্যরাতে রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আনসার সদস্যদের একটি দল শহরের চড়ুয়াপাড়ায় বাংলা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের বাড়িতে হানা দেয়। তার স্ত্রীর ভাষ্যমতে, এরপর মারধর করতে করতে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তার পোশাক খুলে দুই চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এসব ঘটনার নেতৃত্ব দেন ডিসি কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিন। এরপর মাদকবিরোধী অভিযানে আটক এবং পরে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে আরিফুলকে কারাগারে পাঠান ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ঘটনায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে শনিবার রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানাকে দিয়ে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির এই সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে শনিবারই বিভাগীয় কমিশনাররের কাছে প্রতিবেদন জমা পড়ে। এরপর রোববার ডিসি সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে জামিন দিয়েছেন কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। রোববার সকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল এবং জামিন আবেদন করা হলে তিনি তা শুনানির জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পাঠান। এরপর সকাল ১১টার দিকে শুনানি শেষে ২৫ হাজার টাকা বন্ডে এবং একজন আইনজীবী ও প্রেসক্লাবের সভাপতির জিম্মায় জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুজাউদ্দৌলা।