আমাদের সেনাবাহিনী

অরিফ রুহুল

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের অখণ্ডতা রক্ষাসহ সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহায়তায় প্রয়োজনীয় শক্তি ও জনবল সরবরাহ করে থাকে। এ ছাড়া বাড়তি ও মানবিক কাজ হিসেবে প্রতিটি জাতীয় দুর্যোগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করেন। ইতোমধ্যে প্রতিটি দুর্যোগে সেনাবাহিনীর সদস্যরা মানুষের পাশে ছিলেন বিশ্বস্ত হাত হয়ে।

এবার করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সচেতনতা কার্যক্রম ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ২৪ মার্চ থেকে দেশের সকল বিভাগ এবং জেলায় স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার উদ্দেশ্যে সেনা মোতায়েনের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষে ২৫ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী পুরোপুরি কাজ শুরু করে।

পরবর্তী কার্যক্রম সবার জানা। সেনাবাহিনীর সদস্যরা করোনা মোকাবেলায় মানুষকে সাহায্য করতে সব করছেন। তারা প্রচলিত কঠোরতার কোনোকিছু না দেখিয়েই মানুষকে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে অনুরোধ করছেন। মানুষকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করে ঘরে ফেরত পাঠাচ্ছেন। করোনা থেকে মুক্তির নানা সচেতনতার কথাও তারা বলছেন।

খবরে প্রকাশ, করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সকল জেলায় এবং প্রান্তিক পর্যায়ে লিফলেট ও প্ল্যাকার্ডসহ মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। করোনা ভাইরাস বর্তমানে বাংলাদেশের সংক্রমণ এবং বিস্তৃতির ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের সকল জেলায় চলছে সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম।

এই কার্যক্রমের আওতায় জন সচেতনতা সৃষ্টিতে পায়ে হেঁটে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে ছুটে যাচ্ছেন তারা। যাতে লেখা থাকছে, ‘ঘনঘন হাত ধুই, করোনা থেকে নিরাপদ রই’, ‘বিদেশ থেকে এসেছি যারা, কোয়ারেন্টাইনে থাকব তারা’, ‘আতঙ্ক না ছড়াই, সতর্ক থাকি সাহায্য করি’ ইত্যাদি।

বলা প্রয়োজন বিদেশফেরতদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে কাজ করছেন সেনা সদস্যরা। এ ছাড়া সামাজিক জীবনে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করে কীভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হবে সে বিষয়েও মানুষকে সচেতন করছেন সেনা সদস্যরা। সেনাবাহিনী বিভাগ এবং জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনে মেডিকেল সহায়তাও প্রদান করছে।

অবশ্য বল প্রয়োগ নয়, উদ্বুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলছেন সেনারা। আর এজন্য তারা মাইকিং করা ছাড়াও মানুষের জটলা ভেঙে দেওয়া, রাস্তা ও বাজারে টহল বাড়ানো, মাস্ক বিতরণ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং প্রয়োজনে জরিমানা করছেন। বিশেষ করে যারা ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং নিচ্ছেন সবাই যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন সেই বিষয়গুলোও নিশ্চিত করার কাজ করছেন।

আন্তবাহিনী গণসংযোগ বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় আমরা এক ধরনের শিথিলতা লক্ষ্য করছি। এটি যাতে না হয় সে কারণে আমরা কঠোর আছি। তবে বল প্রয়োগের মাধ্যমে বা কাউকে হিউমিলিয়েট করে নয়, আমরা মানুষকে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করছি। করোনা প্রতিরোধে সিভিল প্রশাসনের যত ধরনের সহায়তা প্রয়োজন আমরা সব করব।’

আইএসপিআর জানিয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার ৬২ জেলায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। আর দুটি জেলায় কাজ করছে নৌবাহিনী। তবে সেনাবাহিনীর সাথে আরো চার জেলায় নৌবাহিনীও কাজ করছে। ৬৪ জেলায় সব মিলিয়ে মোট ৫২৫টি দল কাজ করছে।

একইভাবে উপকূলীয় অঞ্চলেও সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে নৌ বাহিনী। বিমান বাহিনী হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জরুরি পরিবহন কাজে নিয়োজিত থাকছে।

এমন ক্ষণে কথা থাকে, তাদের কাজটি খুব সহজ নয়। এ ছাড়া তারাও চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংবাদকর্মীদের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে। সামাজিক মেলামেশায় তারা খুব বেশি করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে। তবু তারা দায়িত্ব পালনে তৎপর। এ অন্য দেশপ্রেম ও মানবপ্রেম। এমন ক্ষণে বলা যায় নভেল করোনাভাআরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় মাঠে দায়িত্বরত প্রতিটি সেনা সদস্য এক একজন যোদ্ধা। তারা মানবতার প্রতীক।

লেখক : সমাজ সংস্কারক।