করোনা মোকাবেলায় প্রশংসা পেতেই পারেন শেখ হাসিনা

খান ইফতেখার আমিন

বিশ্বের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক নিবন্ধে করোনা মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসে নিবন্ধটি লিখেন কানাডীয় লেখক অভিভাহ ভিটেনবার্গ-কক্স। নিবন্ধে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় শেখ হাসিনাসহ নারী নেতৃত্বাধীন আটটি দেশের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। ২২ এপ্রিল ফোর্বসের অনলাইনে নিবন্ধটি প্রকাশিত হয়।

এ খুশির খবর। অন্তত এদেশবাসির জন্য। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্যতো অবশ্যই। তিনি দেশের মানুষের কল্যাণে সদা তৎপর। সারাবিশ্বে মহামারী রূপ নেওয়া করেনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এ সময় তিনি বেশি তৎপর। আর তার এমন তৎপর থাকার ফলেই দেশে করোনার সংক্রমণ লাগামছাড়া হয়নি এবং আন্তর্জাতিকভাবে তার প্রশংসা করা হয়। যদিও এখনো শঙ্কার কাল কাটছে। বাকি সময়ও সাবধান থাকতে হবে দেশবাসিকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও নিতে হবে যুগান্তকারী সব সিদ্ধান্ত।

ফোর্বসের নিবন্ধে অভিভাহ ভিটেনবার্গ-কক্স লিখেন, বিশ্বের ১৮টি দেশ ও ৫৪৫ মিলিয়ন জনগণকে শাসন করছেন নারীরা। এই লোকসংখ্যা বিশ্বের ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ থেকে ইথিওপিয়া, জর্জিয়া থেকে সিঙ্গাপুর নারীরা রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসীন হচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান তুলে ধরে নিবন্ধে লেখা হয়, ১৬১ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ সংকটের সঙ্গে একেবারে অপরিচিত নয়। শেখ হাসিনা এই সংকট মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামও শেখ হাসিনার এ কাজকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছে।

মহান নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা তড়িৎ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি দ্রুত সব সিদ্বান্ত গ্রহণ করেন। এতে করোনার বিস্তার রোধ অনেকটা সম্ভব হয়। নিবন্ধে লেখা হয়, শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে চীন থেকে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। মার্চ মাসের শুরুর দিকে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার পর তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং জরুরি ছাড়া সব ব্যবসা-বাণিজ্য অনলাইনে পরিচালনার নির্দেশ দেন। পরে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে স্ক্রিনিং ডিভাইস বসানো হয়, যাতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ বহনকারীদের শনাক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষের স্ক্রিনিং হয়। এদের মধ্যে ৩৭ হাজার ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। যে উদ্যোগ এখনো বাস্তবায়ন করছে যুক্তরাজ্য।
নিবন্ধে করোনা মোকাবেলায় যুক্তরাজ্যের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে বলে মত দেন বিশ্বের প্রথম সারির ২০ জন সিইও-এর একজন অভিভাহ ভিটেনবার্গ-কক্স।

এ আমাদের জন্য গর্ব। শেখ হাসিনাও বাংলাদেশের জন্য গর্ব। তার নিরন্তর প্রচেষ্ঠাতেই দেশ ক্রমশ সমৃদ্বির দিকে এগুচ্ছে। এর মাঝেই দেশে হানা দেয় করোনা নামের অতিক্ষুদ্র ভাইরাস। চীনের উহানের একটি সি ফুড থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। দেশে ভাইরাসটি বহন করে নিয়ে আসেন প্রবাসী ভাইয়েরা। শুরুর দিকে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। পরে সরকার কঠোর হয়ে সবার হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া সব ধরণের সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় মাঠে নামে সেনবাহিনী। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর থাকে মানুষকে ঘরে রাখতে। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘর থেকে বের হতে বিনয়ের সঙ্গে নিরুৎসাহিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর এসবকিছুই সম্ভব হয়েছে একজন মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর জন্য। তিনি দেশের অধিক সময়ের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা। অনেকটা সময় তিনি জাতীয় দুর্যোগে নিজেই সব খবর পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি একক সিদ্ধান্ত দেন; বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে। ফলে আমরা খুব সহজেই জাতীয় দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাই। করোনা মোকাবেলায়ও বাংলাদেশ অনেক উন্নত প্রযুক্তির এবং ধনী দেশ থেকে এগিয়ে। এখানেই শেখ হাসিনার স্বার্থকতা। তিনি নিজেই পুরো দেশ দেখেন।

এমনসব কল্যাণের কাজে ছিলেন-আছেন বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে ফোর্বস। আমরা চাই এ প্রশংসা সত্যিই কাজে দেবে। শেখ হাসিনার বিচক্সণ নেতৃত্বে দেশ থেকে বিতাড়িত হবে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। আমাদের চারপাশের নিন্দুকদের মুখে চুনকালি পড়বে। যারা পান থেকে চুন খসলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বের নিন্দা করে। তারাই কিন্তু উদ্দেশ্যমূলক গুজব ছড়াই সরকারকে বেকায়দায় ফেলবে বলে।

বিপরীতে অভিভাহ ভিটেনবার্গ-কক্সরা ঠিকই বুঝতে পারেন ‘একজন আয়রন লেডি’ শেখ হাসিনা। তার খুব বেবশি চাওয়া-পাওয়া নেই। পিতা জাতির পিতা মুজিবের এনে দেওয়া দেশকে আমৃত্যু গড়তে চান তিনি। করোনা অচিরেই চলে গেলে সে গড়ার কাজ নতুন মাত্রা পাবে। জয়তু শেখ হাসিনা, বাংলার নেতা, বাঙালির নেতা।

লেখক : রাজনীতিবিদ।